প্রমত্তা পদ্মার বুকে জেগে ওঠা স্বপ্নের সেতুতে রেলসংযোগ প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা
লাইভ নিউজ বিডি ২৪ ডেক্স-
১০-১০-২০২৩খিঃ
প্রমত্তা পদ্মার বুকে জেগে ওঠা স্বপ্নের সেতুতে রেলসংযোগ প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করলেন আজ মঙ্গলবার ১০অক্টোবর ২০২৩
পদ্মা পাড়ি দিয়ে যান চলাচল শুরু হয়েছে এক বছর তিন মাস আগে। তবে অনেক কাজ বাকি থাকায় ট্রেন চলাচল এতদিন সম্ভব হয়নি। অবশেষে সেই অপেক্ষারও অবসান হলো আজ।
পদ্মা নদীর বুক চিড়ে যে সেতু, তার নিচ তলায় রেল সংযোগ উদ্বোধনের পর একে ‘স্বপ্ন পূরণের দিন’ আখ্যা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত দেশ গড়তে নিজের পরিকল্পনার কথা আবার তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘কেউ যেন বাঙালির ভাগ্য নিয়ে ছিনিমিনি খেলতে না পারে।’
দ্বিতল পদ্মা সেতুতে সড়ক চলাচল উদ্বোধনের সোয়া এক বছর পর মঙ্গলবার মুন্সীগঞ্জের মাওয়া স্টেশন থেকে বহুল প্রতীক্ষিত রেল সংযোগের উদ্বোধন করেন সরকার প্রধান।
সকালে প্রধানমন্ত্রী সড়ক পথে মাওয়া পৌঁছেন গাড়ি বহরে করে। পরে মাওয়া স্টেশনে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে ট্রেনে চড়েন একটার কিছু সময় আগে। ১২ টা ৪৯ মিনিটে তাকে বহনকারী ১৪ কোচের ট্রেনটি যাত্রা শুরু করে ফরিদপুরের ভাঙ্গার উদ্দেশে। ৫৪ মিনিটর পর বেলা ১ টা ৫৫ মিনিটে সেটি পৌঁছে গন্তব্যে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের নিজ অর্থায়নে পদ্মা সেতু নির্মাণ থেকে শুরু করে তার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা, রাজনীতি, নির্বাচন, ইত্যাদি নানা বিষয়ে বক্তব্য রাখেন।
বাসস জানায়, উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সরকারপ্রধান বলেন, “পদ্মা নদী রেলে করে পাড়ি দেয়া, আজকে দিনকে সেই স্বপ্ন পূরণের দিন।”
“এই দেশ আমাদের, আমরা রক্ত দিয়ে স্বাধীনতা এনেছি। কাজেই জাতির পিতার আদর্শ নিয়ে বিশ্বে এগিয়ে যাবে এবং বিশ্বের বুকে মাথা তুলে দাঁড়াবে বাংলাদেশ”, বলেন শেখ হাসিনা।
পদ্মা সেতুর অর্থায়ন নিয়ে বিশ্ব ব্যাংকের সঙ্গে টানাপড়েন এবং পরে নিজ অর্থে সেতু নির্মাণের সিদ্ধান্তের কথাও স্মরণ করান প্রধানমন্ত্রী। বলেন, “সামান্য একটি ব্যাংকের এমডি পদে থাকতে পারবে না বয়সের কারণে, সেটা বলার জন্য বিশ্ব ব্যাংক তারপক্ষে পদ্মা সেতুর অর্থায়ন বন্ধ করে দিয়েছিল। এরপরই আমরা ঘোষণা দিয়েছিলাম নিজের টাকায় পদ্মা সেতু নির্মাণ করব।
“বিদেশি অর্থায়ন বন্ধের পর আমরা নিজেদের টাকায় পদ্মা সেতু নির্মাণের যে ঘোষণা দিয়েছিলাম, আজকে তা করে দেখিয়েছি। আবারও প্রমাণ করেছি বাঙালি ঐক্যবদ্ধ থাকলে কেউ তাকে দাবিয়ে রাখতে পারবে না।”
২০৪১ সাল নাগাদ স্মার্ট বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকারের কথা তুলে ধরে আওয়ামী লীগ প্রধান বলেন, “স্মার্ট জনগোষ্ঠী, স্মার্ট ইকোনমি, স্মার্ট গভমেন্ট, স্মার্ট সোসাইটি-এই আমরা গড়ে তুলব। এটাই আমাদের লক্ষ্য।”
ভবিষ্যতে ষড়যন্ত্র রুখে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “বাঙালি জাতিকে আমি আহ্বান জানাই- জাতির ভাগ্য নিয়ে কেউ যেন ছিনিমিনি খেলতে না পারে।”
চলমান বিশ্বমন্দার পরিপ্রেক্ষাপটে দেশের সব অনাবাদি জমিকে চাষের আওতায় আনার মাধ্যমে উৎপাদন বাড়ানোয় আহ্বানেরও পুনরোল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘কারো কাছে হাত পেতে বা মাথা নিচু করে নয়, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুরের বাংলাদেশে প্রতিটি মানুষ বিশ্ব দরবারে সম্মানের সঙ্গে মাথা উঁচু করে চলবে, এটাই আমাদের লক্ষ্য।”
তারা অবাধ নির্বাচন চায় না
আগামী জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে চক্রান্ত এবং আওয়ামী লীগকে ক্ষমতা থেকে হটানোর ষড়যন্ত্র চলছে বলেও সতর্ক করেন প্রধানমন্ত্রী।
‘আওয়ামী লীগ সরকারে আছে বলেই এদেশে অবাদ নিরপেক্ষ নির্বাচন হয়’ মন্তব্য করে তিনি বলেন, “যারা নির্বাচনের ধোঁয়া তুলে আমাদের প্রতিদিন ক্ষমতা থেকে হটায় তারা কখনো অবাধ নিরপেক্ষ নির্বাচন চায় না। কারণ, তাদের প্রতিষ্ঠাই হয়েছে একজন অবৈধভাবে ক্ষমতা দখলকারীর হাত দিয়ে এবং ভোট চুরি করা ছাড়া কোনোদিন ক্ষমতায় আসে নাই।”
তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে ২০০৮ সালের নির্বাচনে বিএনপি-জামায়াত নেতৃত্বে ২০ দলীয় জোট ৩০০ আসনের মধ্যে ২৯টি পাওয়ার কথা তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, “তারপর থেকে তারা নির্বিাচন বয়কট আর নির্বাচন নিয়ে খেলা, অগ্নিসন্ত্রাস, মানুষ হত্যা, মানুষের জীবন নিয়ে খেলা- এই ধ্বংসযজ্ঞেই মেতে আছে।”
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর ছোট বোন শেখ রেহানাও উপস্থিত ছিলেন।
রেলপথ মন্ত্রী নূরুল ইসলাম সুজনের সভাপতিত্বে এই আয়োজনে মুন্সীগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য সাগুফতা ইয়াসমিন এমিলি, সেনাপ্রধান জেনারেল এস এম শফিউদ্দিন আহমেদ ও বাংলাদেশে চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েনও বক্তৃতা করেন।
অনুষ্ঠানে ঢাকা ও যশোরের মধ্যে রেল যোগাযোগের ওপর একটি ভিডিও প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়।
রেলপথ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি এ বি এম ফজলে করিম চৌধুরী, বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক কামরুল আহসান ও প্রকল্প পরিচালক আফজাল হোসেনও মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন।