1. nagorikit@gmail.com : livenewsbd24 : Nagorik IT
রবিবার, ০১ নভেম্বর ২০২৬, ০৪:০১ অপরাহ্ন
  •                      
ব্রেকিং নিউজ:
জামালপুরে নানা আয়োজনে জাতীয় যুব দিবস পালিত জামালপুরে ৫০ প্রতিবন্ধী ব্যক্তিকে হুইলচেয়ার দিলেন দোস্ত এইড বাংলাদেশ সোসাইটি বিশ্ব সাদাছড়ি নিরাপত্তা দিবস-২০২৬ উদযাপন জামালপুরে জেসমিন প্রকল্পের উদ্যোগে ‘আন্তর্জাতিক শিশুকন্যা দিবস’ পালিত জামালপুরের বকশীগঞ্জে বিশ্ব দৃষ্টি দিবস: ব্র্যাকের সহযোগিতায় র‍্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত ৩৬ তম আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবস ২০২৬ উদযাপন উপলক্ষে জামালপুরে আলোচনা সভা নিজ অর্থায়নে কাঠের সেতু বানিয়ে স্বস্তি দিলেন চেয়ারম্যান প্রার্থী সোহাগ যুবকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার, ‎হারানো মা কে ফিরে পেলেন সন্তানেরা, ফিরে গেলেন তার আপন গৃহে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ২য় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে জামালপুরে সমাবেশ

বেগম জিয়ার আত্ব-জীবনী

মনোয়ার হোসেন মুক্তা
  • আপডেট করা হয়েছে মঙ্গলবার, ৩০ ডিসেম্বর, ২০২৫
  • ১৯৫ বার পড়া হয়েছে

বেগম জিয়ার আত্ব-জীবনী

‎

প্রতিবেদক – মনোয়ার হোসেন মুক্তা

বেগম খালেদা জিয়া (জন্ম: ১৫ আগস্ট ১৯৪৫ – মৃত্যু: ৩০ ডিসেম্বর ২০২৫) বাংলাদেশের রাজনীতির একটি প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব, যিনি দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে পরিচিত। তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর চেয়ারপার্সন ছিলেন এবং দু’বার প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। তার রাজনৈতিক জীবন গণতন্ত্রের পক্ষে আন্দোলন, স্বৈরশাসনবিরোধী লড়াই এবং শেখ হাসিনার সঙ্গে দীর্ঘকালীন প্রতিদ্বন্দ্বিতায় চিহ্নিত। নিচে তার জীবনের বিভিন্ন অধ্যায়ের বিস্তারিত বর্ণনা দেওয়া হলো।

প্রারম্ভিক জীবন এবং শিক্ষা
বেগম খালেদা জিয়া ১৯৪৫ সালের ১৫ আগস্ট তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের দিনাজপুর জেলার জলপাইগুড়িতে (বর্তমানে ভারতের পশ্চিমবঙ্গে) জন্মগ্রহণ করেন। তার জন্মতারিখ নিয়ে কিছু বিতর্ক আছে – কিছু ডকুমেন্টে ১৯৪৬ সাল উল্লেখিত, কিন্তু অফিসিয়ালি ১৯৪৫ সালের ১৫ আগস্ট (বাংলাদেশের স্বাধীনতা দিবসের সঙ্গে মিলিয়ে) গণ্য করা হয়। তার পিতা ইস্কান্দার মজুমদার একজন ব্যবসায়ী এবং চা-বাগানের মালিক ছিলেন, এবং মাতা তৈয়বা মজুমদার গৃহিণী। পরিবারটি মুসলিম ছিল এবং ১৯৪৭ সালের দেশভাগের পর পূর্ব পাকিস্তানে (বর্তমান বাংলাদেশ) চলে আসে।
‎তার শৈশব দিনাজপুর এবং পরবর্তীতে ঢাকায় কাটে। তিনি দিনাজপুর গার্লস স্কুল থেকে মাধ্যমিক শিক্ষা সম্পন্ন করেন এবং পরে ঢাকার সুরেন্দ্রনাথ কলেজে পড়াশোনা করেন। কলেজ জীবনে তিনি ছাত্র রাজনীতিতে সামান্য জড়িত ছিলেন, কিন্তু প্রধানত গৃহস্থালী জীবনের দিকে মনোযোগী ছিলেন।
‎

বিবাহ এবং পরিবারিক জীবন
‎১৯৬০ সালে, মাত্র ১৫ বছর বয়সে, তিনি পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর ক্যাপ্টেন জিয়াউর রহমানের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। জিয়াউর রহমান পরবর্তীতে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন এবং ১৯৭৭ সালে রাষ্ট্রপতি হন। বিবাহের পর খালেদা জিয়া প্রধানত গৃহিণী হিসেবে জীবন যাপন করেন, সেনা ক্যান্টনমেন্টে থেকে। তাদের দু’টি সন্তান: বড় ছেলে তারেক রহমান (বর্তমানে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান) এবং ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকো (যিনি ২০১৫ সালের ২৪ জানুয়ারি মালয়েশিয়ায় হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান)
‎জিয়াউর রহমানের রাজনৈতিক উত্থানের সঙ্গে সঙ্গে খালেদা জিয়া সামাজিক কার্যক্রমে জড়িত হন, যেমন সেনা স্ত্রীদের সংগঠন এবং দাতব্য কাজ। কিন্তু ১৯৮১ সালের ৩০ মে জিয়াউর রহমানের হত্যাকাণ্ড তার জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেয়।
‎

রাজনীতিতে প্রবেশ এবং বিএনপির নেতৃত্ব
‎জিয়াউর রহমানের মৃত্যুর পর, খালেদা জিয়া ১৯৮২ সালে বিএনপিতে যোগ দেন, যা তার স্বামী ১৯৭৮ সালে প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। প্রথমে তিনি সিনিয়র ভাইস চেয়ারপার্সন হন এবং ১৯৮৪ সালে চেয়ারপার্সন নির্বাচিত হন। ১৯৮০-এর দশকে জেনারেল হুসাইন মুহাম্মদ এরশাদের স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে তিনি নেতৃত্ব দেন। তিনি আওয়ামী লীগের শেখ হাসিনার সঙ্গে জোট গঠন করে (যদিও পরে প্রতিদ্বন্দ্বিতা শুরু হয়) এবং হরতাল, মিছিলের মাধ্যমে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের দাবি তোলেন। এই সময় তাকে “আপসহীন নেত্রী” বলে আখ্যা দেওয়া হয়।
‎প্রধানমন্ত্রিত্বকাল (১৯৯১–১৯৯৬ এবং ২০০১–২০০৬)
‎প্রথম মেয়াদ (১৯৯১–১৯৯৬): ১৯৯১ সালের নির্বাচনে বিএনপির জয়ের পর তিনি বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হন (মুসলিম বিশ্বে দ্বিতীয়, বেনজির ভুট্টোর পর)। এই সময় তিনি সংসদীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেন (১২তম সংশোধনী দিয়ে রাষ্ট্রপতিকেন্দ্রিক থেকে প্রধানমন্ত্রীকেন্দ্রিক ব্যবস্থা)। অর্থনৈতিক সংস্কার, বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং অবকাঠামো উন্নয়ন (যেমন যমুনা সেতু প্রকল্পের সূচনা) তার অর্জন। কিন্তু বিরোধীদের অভিযোগ ছিল দুর্নীতি এবং নির্বাচনী কারচুপি ।
দ্বিতীয় মেয়াদ (২০০১–২০০৬): চারদলীয় জোটের জয়ে পুনরায় প্রধানমন্ত্রী হন। এই সময় অর্থনীতির গড় বৃদ্ধি ৫-৬% ছিল, রপ্তানি বাড়ানো হয় (বিশেষ করে গার্মেন্টস সেক্টর), এবং শিক্ষা-স্বাস্থ্য খাতে বিনিয়োগ বাড়ে। তিনি সার্ক সম্মেলন আয়োজন করেন এবং ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নে কাজ করেন। কিন্তু ইসলামী চরমপন্থীদের উত্থান (যেমন ২০০৫ সালের বোমা হামলা) এবং দুর্নীতির অভিযোগ তার সরকারকে বিতর্কিত করে।
‎বিরোধী দলীয় নেতৃত্ব, গ্রেফতার এবং চ্যালেঞ্জ
‎২০০৬-এর পর তিনি বিরোধী নেত্রী হিসেবে আওয়ামী লীগ সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন চালান। ২০০৭-২০০৮ সালে সেনা-সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় দুর্নীতির অভিযোগে গ্রেফতার হন। ২০১৮ সালে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় ৫ বছরের সাজা হয় (পরে ১০ বছর বাড়ানো হয়), এবং তিনি কারাবাসে থাকেন। তার ছেলে তারেক রহমানও দুর্নীতির মামলায় দণ্ডিত হয়ে লন্ডনে নির্বাসিত। ২০২৪ সালে শেখ হাসিনার সরকারের পতনের পর তিনি মুক্তি পান এবং ২০২৫ সালে সব মামলায় খালাস পান।
‎স্বাস্থ্য সমস্যা এবং মৃত্যু
‎দীর্ঘদিন লিভার সিরোসিস, ডায়াবেটিস, হার্ট এবং কিডনি রোগে ভুগছিলেন। ২০২৪ সাল থেকে তার স্বাস্থ্যের অবনতি শুরু হয়, এবং তিনি বিদেশে (সিঙ্গাপুর, যুক্তরাজ্য) চিকিত্সা নেন। ২০২৫ সালের নভেম্বরে ফুসফুসের সংক্রমণ নিয়ে ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি হন। ৩০ ডিসেম্বর ২০২৫ সকালে (আজ) ৮০ বছর বয়সে তিনি মারা যান। তার মৃত্যুর খবরে বাংলাদেশে তিনদিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করা হয়েছে, এবং তার অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া ৩১ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হবে। আন্তর্জাতিক নেতারা, যেমন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, শ্রদ্ধা জানিয়েছেন।
‎উত্তরাধিকার এবং প্রভাব
‎খালেদা জিয়া বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলনের প্রতীক হিসেবে স্মরণীয়। তিনি নারী ক্ষমতায়নের উদাহরণ স্থাপন করেন এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নে অবদান রাখেন। কিন্তু তার রাজত্বকাল দুর্নীতি, রাজনৈতিক সহিংসতা এবং শেখ হাসিনার সঙ্গে “দুই নেত্রীর যুদ্ধ” (Battle of the Begums) নামে পরিচিত প্রতিদ্বন্দ্বিতায় চিহ্নিত। তার মৃত্যু বাংলাদেশের রাজনীতিতে এক যুগের অবসান ঘটিয়েছে, এবং বিএনপির ভবিষ্যত্ নেতৃত্ব তার সুযোগ্য সন্তান তারুণ্যের অহংকার জ্বনাব তারেক রহমানের হাতে ।

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন

বিনা অনুমতিতে ওয়েবসাইটের লেখা, ছবি, ভিডিও ব্যবহার করা কপিরাইট আইনের লংঘন ।

কারিগরি সহযোগিতায়- নাগরিক আইটি