1. nagorikit@gmail.com : livenewsbd24 : Nagorik IT
শনিবার, ০৫ এপ্রিল ২০২৫, ০১:৩৯ পূর্বাহ্ন
  •                      
ব্রেকিং নিউজ:
আপন চাচার চোখ তুলে নিলেন ভাতিজা মানবাধিকার প্রতিষ্ঠা ও বাস্তবায়ন সংস্থা জামালপুর জেলা শাখার উদ্যোগে এতিম ও সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের সাথে দোয়া ও ইফতার মাহফিল তিস্তা নদী আমার অধিকার-সমস্যা ও প্রতিকার নিয়ে জামালপুরে সংবাদ সম্মেলন জামালপুরে শান্তি-শৃঙ্খলা উন্নয়নে এবং সামাজিক সচেতনতায় যুবদের ভূমিকা শীর্ষক প্রশিক্ষণ আগামীর দিন হবে তারেক রহমানের বলেছেন ডক্টর নিলুফার চৌধুরী মৃত বন্ধু রেজাউলের আত্মার মাগফেরাত কামনাই ইফতার ও দোয় মাহফিল অনুষ্ঠিত ব্যাংক লোপাট করে লাপাত্তা হলেও বহাল তবিয়াতে ঘুরে বেড়াচ্ছেন মির্জা আজমের আর্শিবাদপুষ্ট জামালপুরে আদালত চত্ত্বরে সংঘর্ষ,আইনজীবী সহ আহত ৮ জামালপুর সদর থানা কর্তৃক ওপেন হাউস ডে” সভায় ২নং শরিফপুর ইউনিয়নবাসীর সাথে এসপি’র মতবিনিময় সভা জামালপুরে উপজেলা পর্যায়ে বাস্তবায়িত ক্ষুদ্রঋণ কার্যক্রমের গতিশীলতা আনায়ন শীর্ষক প্রশিক্ষণ-২০২৫

মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে হবিগঞ্জ মুক্ত দিবস ৬ ডিসেম্বর

অপরাজিত বিশ্বাস অপু সিলেট ব‍‍্যুরো।
  • আপডেট করা হয়েছে মঙ্গলবার, ৫ ডিসেম্বর, ২০২৩
  • ৩৬৪ বার পড়া হয়েছে

মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে হবিগঞ্জ মুক্ত দিবস ৬ ডিসেম্বর

 

অপরাজিত বিশ্বাস অপু
সিলেট ব‍‍্যুরো।

হবিগঞ্জ মুক্ত দিবস আগামীকাল ৬ ডিসেম্বর। ১৯৭১ সালের এ দিনেই হবিগঞ্জবাসী স্বাধীনতার স্বাদ পেয়েছিলেন। এ দিনে দীর্ঘ ৯ মাসের অবরুদ্ধ পরিবেশের অবসান হয়েছিল। শীতের সকালের সূর্যের রক্তিম আভা ছড়িয়ে পড়েছিল পাকিস্তানী হানাদার মুক্ত আলো বাতাসে। আনন্দে উদ্বেল হবিগঞ্জবাসী মুহূর্তের মধ্যে স্বজন হারানোর বেদনায় থমকে পড়েছিলেন। হবিগঞ্জ মুক্ত দিবস উপলক্ষে দিনব্যাপি কর্মসূচি গ্রহণ করেছে মুক্তিযোদ্ধা সংসদ হবিগঞ্জ সদর উপজেলা ইউনিট। জেলা প্রশাসনও বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।
১৯৭১ সালে ৬ ডিসেম্বর সূর্যাস্তের পর হবিগঞ্জ শহরে নেমে আসে ভূতুরে নিস্তব্ধতা। স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রে মুক্তিযোদ্ধাদের বিজয়ের খবর শোনার জন্য শহরবাসী রেডিওতে কান পেতেছিলেন। এর কদিন আগেই বিদ্যুৎ কেন্দ্র, শায়েস্তানগর ও উমেদনগরের বীর মুক্তিযোদ্ধারা প্রচন্ড গুলি বর্ষণের মাধ্যমে তাদের আগমন বার্তা ঘোষণা করেছিল। খোয়াই নদীর ওপার থেকে মুক্তিযোদ্ধারা গুলি ছুড়তে থাকেন। শায়েস্তানগর এলাকায় বর্তমানের টেলিফোন এক্সচেঞ্জর স্থানে পাকিস্তানী মিলিশিয়াদের একটি ক্যাম্প ছিল। তবে তারা আগের দিনই শহর ছেড়ে চলে যায়। পাকিস্তনীদের দালাল এডভোকেট মোহাম্মদ আব্দুল্লাহর শায়েস্তানগরস্থ বাসভবনে একা হামলা চালাতে গিয়ে রাজাকারের গুলিতে নিহত হন মুক্তিযোদ্ধা সাবেক সেনা সদস্য নূরুল ইসলাম মাসুদ। তিনি শহীদ হওয়ার পর মুক্তিযোদ্ধারা শহরে আর কোন প্রতিরোধের সম্মুখীন হননি। রাজাকার, আলবদর আল সামস্ বাহিনীর সদস্যরা মুক্তিযোদ্ধাদের তীব্র হামলার মুখে রাতেই শহর ছেড়ে পালিয়ে যায়।৬ ডিসেম্বরে শীতের সকালে রক্তিম সূর্য তার উষ্ণ আভার ছোঁয়া দিয়ে বিজয়ী মুক্তিযোদ্ধাদের আরো সতেজ করে তুলে। শহরবাসী বাংলার দামাল মুক্তিযোদ্ধাদের অভিবাদন জানায়। তারা জয় বাংলা স্লোগান দিয়ে মুক্ত হবিগঞ্জ শহরের রাস্তায় নেমে এসে বিজয়ের উল্লাস প্রকাশ করেন। এ ছিল এক বিস্ময়কর অনুভূতি।
মুক্ত হবিগঞ্জে মুক্তিযোদ্ধাদের যে দলটি প্রথমে প্রবেশ করে তার নেতৃত্বে ছিলেন অবসরপ্রাপ্ত ল্যান্স নায়েক আব্দুস শহীদ। তার সাথে আরো যে কয়েকজন মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন তারা হলেন সদর উপজেলার বহুলা গ্রামের লতিফ, মশাজানের অবসরপ্রাপ্ত হাবিলদার আব্দুল কাইয়ুম, সুলতান মামদপুরের মুহাম্মদ আজিম, সুলতানশীর আব্দুল মালেক, হবিগঞ্জ পৌর এলাকার সাবু মিয়া, রইছ আলী, উমেদনগরের শুকুর মিয়া, বাহুবলের হাবিব মিয়া, রাজিউড়ার আলফু মিয়াসহ ৩৫ জন । তারা সকাল ১০-১১ টার দিকে পইলের রাস্তা দিয়ে শহরে প্রবেশ করে। এর আগে তাদের অবস্থান ছিল সাবাসপুর, বক্তারপুর ও সুয়াইয়া গ্রামে। দলটি শহর প্রদক্ষিণ করে থানায় গিয়ে স্বাধীন বাংলার পতাকা উত্তোলন করেন। পরে জে কে এন্ড এই কে হাই স্কুলে মুক্তিযোদ্ধাদের ফুলেল শুভেচ্ছা জানায় হাজার হাজার জনগণ।
অনেক মুক্তিযোদ্ধাসহ অবসরপ্রাপ্ত ল্যান্স নায়েক আব্দুস শহীদের নেতুত্বে মুক্ত হয় হবিগঞ্জ।তিনি মুক্তিযোদ্ধা সংসদ হবিগঞ্জ সদর ইউনিটের সাবেক কমান্ডার। তিনি জানান, তার নেতৃত্বে ৩ নং সেক্টরের একটি প্লাটুন ২ ডিসেম্বর হবিগঞ্জ শহরের পাশে এসে আস্তানা গড়ে এবং দুই জন দালালকে আটক করে হত্যা করেন। পরে ৫ ডিসেম্বর ঘেরাও করা হয় হবিগঞ্জ শহর। তখন পাক সেনারা বাধ‍্য হয় পালিয়ে যেতে। ৬ ডিসেম্বর সকালে আমরা শহরে প্রবেশ করি এবং থানায় স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন করি। জনণন আমাদেরকে জয়বাংলা স্লোগান দিয়ে স্বাগত জানায়।
এদিকে একই দিন হবিগঞ্জ জেলার চুনারুঘাট ও নবীগঞ্জ উপজেলাও মুক্ত হয়।

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন

বিনা অনুমতিতে ওয়েবসাইটের লেখা, ছবি, ভিডিও ব্যবহার করা কপিরাইট আইনের লংঘন ।

কারিগরি সহযোগিতায়- নাগরিক আইটি