জামালপুর জেলাধীন সরিষাবাড়ী পৌরসভাকে (ক) শ্রেনীতে উন্নীত করলেন মানবিক মেয়র মনির উদ্দিন মনির
প্রতিবেদক – মনোয়ার হোসেন মুক্তা
সরিষাবাড়ী পৌরসভা
জামালপুর জেলার একটি পৌরসভা
সরিষাবাড়ী পৌরসভা বাংলাদেশের ময়মনসিংহ বিভাগের জামালপুর জেলার সরিষাবাড়ী উপজেলার অন্তর্গত ।
স্থাপিতঃ ১৯৯০ খ্রিঃ শ্রেণীঃ সাবেক (খ) বর্তমান (ক) আয়তনঃ২১.১০বর্গ কিঃমিঃ। পানি সরবরাহ ব্যবস্থাঃপাম্পঃ৩টি,ওভারহেড ট্যাংকঃ১টি(১.৫লক্ষ)গ্যালন।পৌরসভা ভবনঃ১টি দ্বিতল ও ১টি চারতলা ভবন, পৌর মার্কেটঃ১টি(দ্বিতল)হাট/বাজারঃ৩টি।ব্যাংক-বীমাঃ১০টি।রেল ষ্টেশনঃ২টি।বাস-টার্মিনালঃ১টি।কলেজঃ৪টি।উচচ বিদ্যালয়ঃ৫টি।কারিগরী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানঃ৬টি।মাদ্রাসাঃ৬টি।প্রাথমিক বিদ্যালয়ঃ২০টি।
জামালপুর জেলাধীন সরিষাবাড়ী উপজেলা উল্লেখ্যযোগ্য একটি নাম, ১৯৯০ সালে পৌরসভাটি প্রতিষ্ঠা লাভ করলেও উন্নয়নের ছোঁয়া পড়েনি ছিটেফোঁটাও দীর্ঘ ২৫ বৎসর বিএনপি শাষন আমলের ক্ষমতাশীন দল কবজা করে রেখেছিলো পৌরসভাটি কে অবহেলায় জীর্নশীর্ন ছিলো পৌরসভাটি, আওয়ামী সরকার আমলে ক্ষমতার পরিবর্তন হলেও কাটেনি দুঃদশা উন্নয়ন হয়নি রাস্তা ঘাট হাট বাজার প্রশাসনিক অবকাঠামো, এমন কি ঋনের বুঝায় জর্জরিত ছিল পৌরসভার প্রশাসনিক কার্যত ব্যাবস্থা, বছর কে বছর বেতন ভাতা পাননি কর্মচারী গনরা, ৩০ জানুয়ারী ২০২১ সালে স্বতসফুর্ত নির্বাচনে বিপুল ভোটে জয়ী হোন উপজেলা আওয়ামীলীগের অন্যতম সহ-সভাপতি সাবেক তুখোড় ছাত্রনেতা জনাব মনির উদ্দিন মনির নির্বাচিত হোন নতুন পৌর মেয়র হিসাবে সেখান থেকেই পালাবদল শুরু নির্বাচনী ওয়াদা অনুযায়ী আমল বদলে যায় পৌরসভার চিত্র ভাগ্যের উন্নয়ন ঘটে পৌরবাসীর একের পর এক উন্নয়ন হয় রাস্তা ঘাট অবকাঠামোর, পৌরসভাটি দেখতে শুরু করে আলোর মুখ, নাগরিক সুবিদা বিবেচনা করে উন্নয়নে কাজ করে যান পৌর মেয়র জনাব মনির উদ্দিন মনির, ভাগ্য বদলে যেতে শুরু করে পৌরবাসির তারই ধারাবাহিকতায় পৌরসভা টি (খ) শ্রেনী থেকে (ক) শ্রেনীতে উন্নীত লাভ করেন স্থানীয় সরকার বিভাগ ২১/০৯/২০২৩ এই আদেশ জারী করেন। স্বানীয় সরকার বিভাগ পৌর-২শাখার বিগত ৩১/০৫/২০১১ খ্রিঃ তারিখের ৮১১ নং স্বারকের জারিকৃত পরিপত্র মোতাবেক জামালপুর জেলার সরিষাবাড়ী পৌরসভাকে ১ম শ্রেনীকে উন্নীত করেন।
নির্বাচনী ওয়াদা অনুযায়ী বদলে যায় বর্তামান পৌরসভার দৃশ্যপট।
সরিষাবাড়ী বাংলাদেশের জামালপুর জেলার অন্তর্গত একটি উপজেলা। এটি ৮টি ইউনিয়ন এবং একটি পৌরসভা নিয়ে গঠিত। এটি ময়মনসিংহ বিভাগের অধীন জামালপুর জেলার ৭ টি উপজেলার একটি এবং এটি জেলার দক্ষিণভাগে অবস্থিত। এ উপজেলার উত্তরে মাদারগঞ্জ উপজেলা ও জামালপুর সদর উপজেলা উপজেলা, দক্ষিণে টাঙ্গাইল জেলার ভূঞাপুর উপজেলা, পূর্বে টাঙ্গাইল জেলার গোপালপুর উপজেলা ও ধনবাড়ী উপজেলা উপজেলা, পশ্চিমে বগুড়া জেলার সারিয়াকান্দি উপজেলা, সিরাজগঞ্জ জেলার কাজীপুর উপজেলা ও সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলা অবস্থিত। এটি একটি গুরত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক এলাকা। এখানে দেশের সবচেয়ে বড় সার কারখানা ‘যমুনা সার কারখানা’ অবস্থিত।
পাকিস্তান শাসনামলে ১৯৬০ সালে সরিষাবাড়ী থানা গঠিত হয়। বাংলাদেশ স্বাধীনতা লাভের পর ১৯৮৩ সালে সরিষাবাড়ী উপজেলা প্রতিষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সরিষাবাড়ী উপজেলা জামালপুর-৪ সংসদীয় আসনের অন্তর্ভুক্ত । এ আসনটি জাতীয় সংসদে ১৪১ নং আসন হিসেবে চিহ্নিত।
সরিষাবাড়ী উপজেলার আয়তন ২৬৩.৫০ বর্গ কিলোমিটার এবং জনসংখ্যা ২০১১ সনের আদম শুমারী অনুযায়ী ৩,২৫,৩২০ জন। পুরষ ও নারীর অনুপাত ১০০ঃ৯৬, জনসংখ্যার ঘনত্ব প্রতি বর্গ কিলোমিটারে ১২৩৫ জন, শিক্ষার হার ৪৪.৬%
১) তদানিন্তর বৃটিশ শাসনামলে বর্তমান চর সরিষাবাড়ী ছিল আদি সরিষাবাড়ী। খরস্রোতা যমুনার কড়াল গ্রাসে আদি সরিষাবাড়ী বিলুপ্ত। তখন নদীর নাব্যতা ছিল, চলাচল করতো ষ্টীমার, জলজাহাজ। নদী বিধৌত চার ইউনিয়নের পিংনা, পোগলদিঘা, আওনা, কামরাবাদ এর অধিকাংশ ভূমিতেই সরিষা আবাদ হতো। বীর অঞ্চলের চারটি ইউনিয়নেও প্রচুর সরিষা আবাদ হতো। দেশের বিভিন্ন অঞ্চল হতে বানিজ্য করার লক্ষ্যে ব্যবসায়ীরা সরিষা কিনতে আসত। সে সময়কাল হতেই এই স্থানটির নাম রাখা হয় সরিষাবাড়ী। তবে -কে কবে, কোথায়, কোন সময়ে ও কোন তারিখে এই স্থানটির নামকরণ করেন তার সুনির্দিষ্ট কোন তথ্য পাওয়া যায়নি।
২) যমুনা বিধৌত ঝিনাই, সুবর্নখালী বেষ্টিত এই সরিষাবাড়ী পূর্বে কাগমারী পরগনায় অবস্থিত ছিল।
৩) পাটশিল্প সমৃদ্ধ সরিষাবাড়ীতে ২২টি পাটের কুঠি ছিল। প্রায় ২২,০০০ বাইশ হাজার শ্রমিক পাটের কুঠিগুলোতে কর্মরত ছিল। বাংলাদেশের পাট ব্যবসায়ী কেন্দ্র হিসেবে নারায়নগঞ্জের পরই সরিষাবাড়ীর স্থান ছিল। আজ তা বিলুপ্তির পথে।
৪) বৃটিশ শাসনামলে সরিষাবাড়ীর ৫নং পিংনা ইউনিয়নে ফৌজদারী আদালত ছিল। কুম্ভকার সম্প্রদায় এর মাটির হাড়ি-পাতিল তৈরীতে পিংনা ইউনিয়ন এখনো বিখ্যাত। ১৮৯৬ সালে পিংনা উচ্চ বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়। মহাকবি কায়কোবাদ, পিংনাতে পোস্টমাস্টার পদে থাকাকালীন অবস্থায় আযান কবিতা রচনা করেন।
৫) ডোয়াইল ইউনিয়নে প্রচুর হিন্দুদের বসবাস ছিল। ডোয়াইলের চরের মুগ ডাল ছিল প্রসিদ্ধ। বৃহত্তর ময়মনসিংহে ডোয়াইলের মুগ ডাল সোনামুগ হিসেবে প্রসিদ্ধ ছিল।
৬) পোগলদিঘা সরিষাবাড়ী উপজেলার সর্ববৃহৎ ইউনিয়ন। এশিয়ার সর্ববৃহৎ ইউরিয়া সারকারখানা সরিষাবাড়ীতে অবস্থিত।
৭) মহাদান ইউনিয়নের খাগুড়িয়া গ্রামের নামানুসারে ঐতিহ্যবাহী খাগুরিয়া কালী মন্দিরের নামকরণ করা হয়েছে। সুদূর ভারত হতে এখানে হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজন উপাসনার জন্য আসে এবং তিনদিনব্যাপী মেলা বসে। এই মন্দিরের নামকরণ করা হয়েছে শ্রী শ্রী খাগড়িয়া কালী মাতা মন্দির। এছাড়া বছরে আরো ৪টি মাঝারী হিন্দুধর্মীয় অনুষ্ঠান হয়।
৮) পুরাতন জগন্নাথগঞ্জ ঘাট ষ্টীমার ষ্টেশন ছিল। নদীর নাব্যতা হারানোর ফলে ষ্টীমার ঘাটটি বিলুপ্ত। এটি আওনা ইউনিয়নের অন্তর্গত ছিল।
৯) রাজনৈতিক বিবর্তনের ধারাবাহিকতায় ১৩৩৫ বাংলা সনে প্রতিষ্ঠিত শ্রী শ্রী রামকৃষ্ণ সেবাশ্রম বিভিন্নভাবে বিভিন্ন সময় স্থানান্তরিত হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি সরিষাবাড়ী পৌরসভার ৪নং ওয়ার্ডে অবস্থিত। বাংলাদেশের ২৩টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে এটি একটি মানব সেবাধর্মী প্রতিষ্ঠান।
১০) সরিষাবাড়ী সদরে দুটি বাজার দুই দিকে অবস্থিত।একটি শিমলা বাজার ও অপরটি রামনগর বাজার (বর্তমানে আরামনগর বাজার)। পাকিস্তান আমলের শেষের দিকে মরহুম রিয়াজউদ্দিন তালুকদার রামনগরের নাম পরিবর্তন করে আরামনগর বাজার নামকরণ করেন।
বিনা অনুমতিতে ওয়েবসাইটের লেখা, ছবি, ভিডিও ব্যবহার করা কপিরাইট আইনের লংঘন ।
কারিগরি সহযোগিতায়- নাগরিক আইটি